Shares

ব্যাচেলর থিসিসটা অনেকের কাছেই খুব অসস্তিকর এবং ভয়ের। আমি ২০১৪ তে ব্যাচেলর ডিগ্রি পাই। আমার জন্যও ভীতিকর ছিলো এই থিসিস। কিভাবে কি শুরু করব এটাই ছিলো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যদিও শেষ পর্যন্ত কোন-রকম কিছু একটা করে পার পেয়েছিলাম। থিসিসের শুরুতে মনে হয়েছে যে এই করব, ওই করবো, এখানে-ওখানে প্রকাশ করে ফেলব। বাস্তবে দেখা যায় যে তেমন ভালো কোন কাজই করা হয়নি। এটা মোটামুটি একটা সার্বজনীন চিত্র।

সত্যি কথা বলতে গেলে, হুট করে ৬ মাস কিংবা ১ বছরে ভালো কোন কিছু একটা করে ফেলা সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে একজন আন্ডারগ্র্যাডুয়েটের পক্ষে যেখান তার গবেষণা নিয়ে তেমন কোন ধারণা থাকে না। কিন্তু ভালো কোন কাজ না করা গেলেও এর গুরুত্ব অনেক। পরবর্তীতে এটাই অনেক সহায়তা করে, বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষায়। ব্যাচেলর থিসিসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো একজন শিক্ষার্থীকে গবেষণার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, ৩ বছর ধরে সে যা শিখেছে তা থেকে কোন একটা কিছু নিয়ে আরো বিশেষ কিছু জানা। যদিও ১ বছর খুব বেশি সময় নয় কিন্তু এই সময় যথেষ্ট একটা বিষয় সম্পর্কে বিশেষ কিছু ধারণা পাওয়ার জন্য যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করা হয়। এই লিখাটার উদ্দেশ্য হলো থিসিস কিভাবে শুরু করা যায় তা নিয়ে কিছুটা ধারণা দেয়া। পোস্টটা মূলত কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য। অবশ্য অন্য শিক্ষার্থীরাও কিছু সাধারণ ধারণা পেতে পারে।

    • থিসিসের ক্ষেত্র বা সাবজেক্ট: একটা গবেষণার শুরু করার আগে জানতে হয় কিসের উপরে গবেষণা করা হবে তা। সুপারভাইজাররা এই নিয়ে সহায়তা করতে পারেন। এর সাথে শিক্ষার্থীকেও জানতে হবে সে কিসের উপরে কাজ করতে আগ্রহী। বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরা তার আগ্রহর বিষয় আগে থেকে জানে না  কিংবা তারা কোন কিছুতে বিশেষ জ্ঞান নিয়ে আগ্রহীও না। তারা শুধু কোর্স আসে বলেই কোনভাবে পাস করে যেতে চায় থিসিসে। কিন্তু জানার জন্য হলেও তাহলে পছন্দের একটা বিষয় ঠিক করো প্রয়োজন। ব্যাচেলর থিসিসে শিক্ষক আশা করেন না যে একজন শিক্ষার্থী খুব ভালো কিছু করে দেখাবে। একটা ভালো রিভিউ কিংবা ছোটখাটো সিম্যুলেশনই যথেষ্ট। যেটা আশা করা হয় তা হলো যা করছে তাতে যেন ভালো একটা ধারণা হয়। আমার লিখার সুবিধার জন্য ধরা যাক একজন শিক্ষার্থী ঠিক করো যে Data Visualization এর উপরে থিসিস করবে। আমি ইংরেজি টপিক লিখলাম বোঝার সুবিধার্থে এবং সামনে লিখার সুবিধার জন্য।
  • মূল টপিক নির্ধারণ: বিষয় বা ক্ষেত্র ঠিক করার পরের কাজ হলো মূল টপিক ঠিক করা। আমার কাছে এটা থিসিসের আগে একটা প্রি-থিসিস বলে মনে হয়। টপিক খুঁজে পাওয়া কষ্টকর একটা বিষয়। বেশ কিছুদিন সময় নিয়ে ঘাটাঘাটি করে এটা ঠিক করতে হয়। আমি সংক্ষেপে কিভাবে টপিক খুঁজা যায় তার একটা উদাহরণ দিচ্ছি।
      • প্রথম কাজ হচ্ছে আমাদের ঠিক করা ক্ষেত্র নিয়ে ভালো ধারণা নেয়া। এইক্ষেত্রে গুগল কিংবা উইকিপিডিয়ার সহায়তা নিতে পারি আমরা। উইকিপিডিয়াতে Data Visualization নিয়ে কিছু ধারণা নেয়া যাক শুরুতে। উইকিতে নানান রকমের ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং এদের ব্যবহার নিয়ে বলা আছে। ডাটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এর উদ্দেশ্য, কারণ বা সুবিধে নিয়েও আলোচনা আছে। যেমন, বেশি পরিমাণ র-ডাটা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা, প্যাটার্ন খোঁজা, কিংবা ওইসব ডাটা থেকে কোন ইভেন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা নেয়া বা প্রেডিক্ট করা।
      • এখন আমি আরো জানতে চাই এই বিষয়ে, কিছু কাজের উদাহরণ দেখতে চাই। আমি সার্চ দিলাম Data visualization examples লিখে। অনেকগুলো লিংক থেকে আমি 15 Stunning Data Visualizations [1] পেইজে গেলাম। এখানে অনেকগুলো খুবই ভালোমানের উদারহণ দেয়া আছে। ২য় উদাহরণ যেটার নাম It reveals trends (চিত্র: ১) আমার কাছে খুব ইন্টারেষ্টিং মনে হচ্ছে। কেননা এটা সহজেই আমাদের দেখাচ্ছে যে কোন সময়ে মানুষ কোন বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে (Twitter) এ কথা বলছে। যেমন, আমরা বুঝতে পারি যে ২০১৪ এর অক্টোবর মাসে মানুষ ইউএসএ তে ইবোলা নিয়ে কথা বলেছে। তার মানে ওই সময়ে ইবোলা এর সংক্রমণ দেখা দিয়েছিলো কিংবা কিছু একটা ঘটেছিলো। যাই হোক, উদারণগুলো থেকে আমি  Social Media Data Visualization নিয়ে কাজ করব বলে ঠিক করলাম।

        চিত্র ১:  It reveals trends

     

    • থিসিস করার সময় Google Scholar হলো একদম কাছের বন্ধু। গুগল স্কলারে চেহারাটা চিত্র: ২ এর মত।  আমরা গুগল স্কলারে আমাদের বিষয় নিয়ে সার্চ দিব।
    • Social Media Data Visualization দিয়ে সার্চ দিলে চিত্র: ৩ এর মত একটা পেইজ আসবে। বামে সময় সিলেক্ট করা যায়। আমার মতে রিসেন্ট কাজগুলো দিয়ে শুরু করা গেলে ভালো হয়। আর একটা সার্চিং কিওয়ার্ড হলো রিভিও দিয়ে শুরু করা। যেমন: Social Media Data Visualization
    • Google Scholar এ অনেকগুলো লিংক আসলো। এর থেকে যে হেডিংগুলো ইন্টারেস্টিং মনে হবে ওইগুলোতে ক্লিক করে জানার বা বোঝার চেষ্টা করা যায় যে কাজটা কি রকম। যেমন আমি ৩ নাম্বার সার্চ পেইজ থেকে এই লিংকটিতে ক্লিক করলাম। Visual analysis of topic competition on social media. সাধারণত ডান পাশে পিডিএফ লিংক দেয়া থাকে কোন পেপারের যদি ওই পেপারটা কোথাও সরাসরি ওপেন থাকে। কোন পেপার যদি সহজে না পাওয়া যায় তাহলে সুপারভাইজরের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আর একটা উপায় হলো Google Scholar Button extension. যে কোন পেপারের টাইটেল লিখে সার্চ দিলেই যদি পিডিএফ থাকে খুব সহজেই ওই পেপারটা পাওয়া যায়। এক্সটেনশনটি নানান ব্রাউজারে এড করা যায়। ক্রোমে নিচের ছবির মত করে এড হয়। আমি আমাদের পেপারের টাইটেলটি সার্চ করে দেখালাম ছবিতে (চিত্র: ৪)। পিডিএফ লিংকে ক্লিক করলেই পেপারটি আসবে। পেপারটি থেকে আমরা বেশ কিছু ধারণা পেতে পারি কিভাবে ভিজ্যুয়ালাইজেশন পেপার লিখা হয়, কিভাবে কাজ করে, অথবা আমরা কি কাজ করতে পারি তা নিয়েও ধারণা পাওয়া যায়। যেমন, আমারা আমাদের দেশের ফেইসবুকে আলোচিত বিষয়গুলো কি কি তা নিয়ে কাজ করতে পারি। অথবা অন্য কোন আইডিয়া। এটা নিয়ে সুপারভাইজরের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। এরপর ওনার মতামত নিয়ে কোন টপিক ঠিক করা যায় কিংবা নতুন করে আবার উপরের কাজগুলো করা যায়। টপিক নির্বাচনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। নিচের পয়েন্টগুলো দেখা যায়।
    • প্রথমে জানতে হবে, আমার দক্ষতা কতটুকু। আমি কি কোডিং এ ভালো? আমি কি এই পেপার বা উদাহরণগুলোর মত কোন ভিজ্যুয়ালাইজেশন তৈরি করতে বা কোড করতে পারব? যদি না পারি শিখে নিতে পারব কিনা? এইসব নিয়ে সুপারভাইজরের সাথেও বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। তবে আগেই বলেছি মূল ব্যাপার হলো বিষয়টা সম্পর্কে ধারণা নেয়া। তাই ছোটখাট কোন একটা কিছু নিয়ে কাজ করলেই হবে।
  • কি রকমের থিসিস করবো: থিসিস অনেক রকমেরই হয়। আমরা মূলত রিভিউ থিসিস এবং ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে কথা বলো।
    • রিভিউ হলো, যে টপিকটা ঠিক করলাম তা নিয়ে কি কি কাজ হয়েছে, কি কি কাজ করার সুযোগ রয়েছে, যে কাজগুলো হয়েছে তার সুবিধে-অসুবিধে বা সীমাবদ্ধতা এইসব নিয়ে বিস্তারিত জানা এবং লিখা। এইক্ষেত্রে মূলত ওই রিলেটেড নানান থিসিস পড়তে হয়। যেমন যদি বিষয় হয়: A Review on Visualiztion of news in the Social Media, তাহলে তাতে এই পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ার সংবাদ কিভাবে প্রকাশিত হয়, ছড়ায় এবং গুজব এইসব নিয়ে যত কাজ হয়েছে সবগুলো রিভিউ করতে হবে। অন্তত যতটা পারা যায়। আমার মতে এইটা কঠিন কাজ।
    • ইমপ্লিমেন্টেশন হলো, ছোটখাটা কিছু একটা ইমপ্লিমেন্ট করে দেখানো। যেমন ধরা যাক, Reveling the disease condition of Bangladesh in a year using social media. এই থিসিসের কাজ হবে বাংলাদেশ বছরের নানান সময়ে কি কি রোগ দেখা যায় তা সোশ্যাল মিডিয়ার নানান টুইট বা ফেইসবুক স্ট্যাটাস ভিজ্যুয়ালাইজেশন করে খুঁজে বের করা।
  • উপরের ধাপগুলো শেষ হলে কাজে লেগে পড়তে হবে। যদি ঠিকভাবে কাজ করা যায় তাহলে এই বিষয়ে অনেক কিছু জানার সাথে সাথে হয়তবা প্রকাশ করার মত একটা থিসিসও হয়ে যেতে পারে। তবে যাই হোক এই গবেষণা পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষায় (এম.এস বা পিএইচডি) খুব ভালো ভূমিকা পালন করবে।

Some recent trending fields in Computer Science:

1. Virtual Reality (VR), 2. Augmented Reality (AR), 3. Big Data analysis, 4. Machine learning, 5. AI, 6. Parallel processing, 7. Cloud computing (Importance is not increasing much but still important), 8. Big Data visualization, 9. Cyber security, 10. 3D image regeneration from Moving platform and on the go, 11. Complex network analysis, 12. Software privacy, 13. Empirical software development, 14. Algorithms and data structures (Highly difficult), 15. Real time object tracking, and 16. Image processing with machine learning

কিছু সাধারণ কথাবার্তা:

১. ব্যাচেলর থিসেসের মূল লক্ষ্য গবেষণা কিভাবে করে তা জানা। উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে এবং সুপারভাইজরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করলে এটটা সহজেই সিদ্ধ হবে।

২. কিছু দেখানোর জন্য গ্রাফ খুব কাজের জিনিস। এর জন্য মাইক্রোসফট এক্সেল কিংবা মেটল্যাব শেখা যেতে পারে। যে টপিকের উপরের থিসিস হোক না কেন এটা কাজে দিবে।

৩. থিসিসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো নিয়মিত সুপারভাইজরের সাথে যোগাযোগ। এটা যেমন মার্কে সহায়তা করবে একই সাথে ভবিষ্যতে ভালো রিকোমেন্ডেশনেও কাজে লাগবে। আর ভুল পথে চলে যাওয়ার সুযোগও কমে যাবে।

৪. টপিকের বেসিকগুলো ভালো করে জেনে নিতে হবে। এতে প্রেজেন্টেশনে বেশ ভালো করতে পারবে।

৫. থিসিসের কাজ আসলে প্লান করে হয় না। কখন শেষ হবে বলা যায় না। তাই নিয়মিত করে যেতে হবে এবং সাবমিট এর আগ পর্যন্ত গুছাতে হবে সব।

৬. থিসিস এর ফাইনাল যে থিসিস পেপার ওটা যেন সুন্দরভবে গোছানো হয়, ফরম্যাটিং ঠিক থাকে  এবং পর্যাপ্ত পরিমানে রিলেটেড ওয়ার্ক থাকে।

৭. রেফারেন্স খুব সুন্দর করে দিতে হবে। কোন রিলেটেড ওয়ার্ক বা ছবি যেন রেফারেন্স থেকে বাদ না যায়।

৮. রিলেটেড ওয়ার্ক নিজের মত করে গুছিয়ে নিজের ভাষায় লিখতে হবে। এরজন্য সহজ টেকনিক হলো, তোমার টপিকের ঠিক কাছাকাছি কোন পেপার খুঁজে বের করা এবং ওটার রিলেটেড ওয়ার্ক থেকে নিজের ভাষায় লিখা কিংবা ধারণা নেয়া।

আজ এখানেই। কোন প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যে করলেই হবে। আমি উত্তর দিয়ে দিব। কারো যদি কোন পেপার ডাউনলোডে সমস্যা হয় বা না করা যায় আমাকে পেপারের লিংক বা তথ্য দিলে আমি সহায়তা করতে পারবো আশা করি। ধন্যবাদ।

 

Reference:

  1. http://blog.visme.co/examples-data-visualizations

 

Shares
ব্যাচেলর থিসিস (Thesis for Bachelor’s Degree)

Comments

comments


Post navigation


Pin It on Pinterest